রোযা অবস্থায় শ্বাসকষ্টের কারণে ইনহেলার ব্যবহারের শরয়ী বিধান ও আধুনিক ফিকহী তাহকীক
বঙ্গানুবাদ ও সরল মর্ম:
রোজা এমন বস্তু থেকে ভঙ্গ হয় যা দেহের অভ্যন্তরে (খাদ্যনালী দিয়ে পাকস্থলীতে) প্রবেশ করে, বের হওয়ার কারণে নয়।
বিস্তারিত আলোচনা ও শরয়ী তাহকীক:
ইনহেলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আধুনিক ফিকহ একাডেমি ও ফকীহগণের মধ্যে গভীর পর্যালোচনা ও গবেষণা রয়েছে। ইনহেলার স্প্রে করার সময় এতে ওষুধের সূক্ষ্ম কণার সাথে গ্যাস মিশ্রিত থাকে যা শ্বাসনালীর মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছে এবং কিছু অংশ খাদ্যনালীতেও প্রবেশ করে।
১. ফতোয়া ও অধিকাংশ ফকীহদের মতামত: উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় দারুল উলূম দেওবন্দ এবং ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ও ফাতাওয়া শামীর মূলনীতি অনুযায়ী— যেহেতু ইনহেলারের সাথে জলীয় ও ওষুধের অতি সূক্ষ্ম কণা মুখ দিয়ে গ্রহণ করা হয় এবং তা গলার ভেতর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে, তাই এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। পরবর্তীতে সুস্থাবস্থায় এই রোজার শুধু কাজা আদায় করতে হবে (কাফফারা আবশ্যক নয়)। যদি রোগী এমন হয় যে কোনোদিনই ইনহেলার ছাড়া সুস্থ থাকতে পারে না, তবে তিনি ফিদিয়া প্রদান করবেন।
২. বিকল্প তাহকীকী মত (যেমন ইসলামিক ফিকহ একাডেমি জেদ্দা ও আল্লামা ইবনে উসাইমীন রহ.): তাঁদের মতে ইনহেলার মূলত ফুসফুসের শ্বাসনালী উন্মুক্ত করার গ্যাসীয় চিকিৎসা, এটি খাদ্য বা পানীয় নয় এবং পাকস্থলীতে পুষ্টি যোগায় না। তবে সতর্কতা ও ঐকমত্যের দাবি হলো দিনের বেলা যথাসম্ভব পরিহার করা এবং সেহরি ও ইফতারের মধ্যবর্তী সময়ে দীর্ঘমেয়াদী ইনহেলার ব্যবহার করা।